মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ভারতের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।   আগামী দুই অর্থবছর বাংলাদেশের এই অবস্থান বজায় থাকতে পারে। এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছরে আবারও বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যাবে ভারত।

আইএমএফের সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক ডেটাবেজ অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বর্তমান মার্কিন ডলারে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৮৬ ডলারে। একই সময়ে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি ২ হাজার ৭৫০ ডলার। অর্থাৎ, এ হিসাবে বাংলাদেশ ১৩৬ ডলার এগিয়ে রয়েছে।

কবে আবার এগিয়ে যাবে ভারত?

বাংলাদেশের অর্থবছর ১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত। সেই হিসাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছর ছিল ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৩০ জুন ২০২৬। পরবর্তী অর্থবছরগুলোও একই নিয়মে গণনা করা হয়।

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ অর্থবছর পর্যন্ত মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে। তবে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি বেড়ে ৩ হাজার ৬৬২ ডলারে পৌঁছাতে পারে। একই সময়ে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ হতে পারে ৩ হাজার ৩৩৪ ডলার। ফলে ভারত ৩২৮ ডলার এগিয়ে যাবে।

২০৩০-৩১ অর্থবছরে দুই দেশের ব্যবধান আরও বাড়তে পারে। তখন ভারতের মাথাপিছু জিডিপি ৪ হাজার ৩৮৯ ডলার এবং বাংলাদেশের ৩ হাজার ৬৮০ ডলার হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ভারতের ব্যবধান দাঁড়াবে ৭০৯ ডলার।

ক্রয়ক্ষমতার হিসাবে এগিয়ে ভারত

মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি (পিপিপি) ভিত্তিতে ভারত অনেকটা এগিয়ে রয়েছে।

পিপিপি পদ্ধতিতে দুই দেশের পণ্য ও সেবার দামের পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে অর্থনৈতিক সক্ষমতা তুলনা করা হয়। আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পিপিপি ভিত্তিতে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি ১২ হাজার ৯৯৮ ডলার এবং বাংলাদেশের ১০ হাজার ৮৮৪ ডলার হতে পারে। এ হিসাবে ভারত প্রায় ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ এগিয়ে।

অর্থনীতির আকারে বড় ব্যবধান

মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও সামগ্রিক অর্থনীতির আকারে ভারত অনেক বড়। আইএমএফের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের অর্থনীতির আকার প্রায় ৪ দশমিক ০৬ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৭৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের মোট জিডিপির আকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫০৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৬৭৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার হতে পারে।

প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ

আইএমএফের পূর্বাভাসে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক শক্তিশালী থাকার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, ভারতের প্রবৃদ্ধির হার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক ০২ শতাংশ এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৮১ শতাংশ হতে পারে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ২ দশমিক ২১ শতাংশে নেমে আসতে পারে। ২০৩০-৩১ অর্থবছরে তা কিছুটা বেড়ে ২ দশমিক ৯৭ শতাংশে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে। এই প্রক্ষেপণ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান

মাথাপিছু জিডিপিতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থানও শীর্ষে নয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, মালদ্বীপের মাথাপিছু জিডিপি ১৯ হাজার ৫০৭ ডলার। এরপর রয়েছে শ্রীলঙ্কা, ৫ হাজার ৬২ ডলার এবং ভুটান, ৪ হাজার ৯৩৩ ডলার।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের মাথাপিছু জিডিপি ১ হাজার ৮৩৬ ডলার এবং নেপালের ১ হাজার ৫৪০ ডলার হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

মাথাপিছু জিডিপি কি মানুষের প্রকৃত আয় বোঝায়?

মাথাপিছু জিডিপি হিসাব করা হয় একটি দেশের মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনকে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে। এটি জনপ্রতি গড় অর্থনৈতিক উৎপাদনের ধারণা দেয়, তবে প্রত্যেক নাগরিকের প্রকৃত আয় বা জীবনযাত্রার মান সরাসরি প্রকাশ করে না।

একইভাবে, বর্তমান মার্কিন ডলারে মাথাপিছু জিডিপির তুলনায় বিনিময় হার ও মূল্যস্ফীতির প্রভাব থাকতে পারে। তাই একটি দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক সক্ষমতা বুঝতে মাথাপিছু জিডিপির পাশাপাশি পিপিপি, আয়বৈষম্য, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সূত্র: আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক ডেটাবেজ ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ভবিষ্যৎ অর্থবছরের পরিসংখ্যানগুলো আইএমএফের পূর্বাভাস; এগুলো নিশ্চিত ফলাফল নয়।